You said:
You said:
ইন্টারনেট আধুনিক বিশ্বের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। বর্তমান যুগকে তথ্যপ্রযুক্তির যুগ বলা হয়, আর এই যুগের মূল চালিকাশক্তি হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা, যোগাযোগ—প্রায় সব ক্ষেত্রেই ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করে তুলেছে। তবে এর পাশাপাশি ইন্টারনেটের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে, যা আমাদের জন্য চিন্তার বিষয়।
ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তথ্যের সহজলভ্যতা। একসময় একটি তথ্য সংগ্রহ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়তে হতো বা লাইব্রেরিতে যেতে হতো। এখন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে যেকোনো তথ্য পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস, ই-বুক, ভিডিও লেকচার ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজেই জ্ঞান অর্জন করতে পারছে। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে ইন্টারনেট শিক্ষাব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইন্টারনেট এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভিডিও কলের মাধ্যমে মানুষ এখন খুব সহজেই প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছে। দূরত্ব আর বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। একইভাবে ব্যবসা ও বাণিজ্যেও ইন্টারনেট বিপ্লব ঘটিয়েছে। অনলাইন শপিং, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসেই আয় ও লেনদেন করতে পারছে। এতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রেও ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকার মানুষ অনলাইনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারছে। স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য, রোগ সম্পর্কে সচেতনতা ও জরুরি সেবা পাওয়া এখন অনেক সহজ হয়েছে। একইভাবে সরকারি ও বেসরকারি সেবাও এখন অনলাইনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে, যা সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় করছে।
তবে ইন্টারনেটের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার মানুষকে আসক্ত করে তুলছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে, যার ফলে পড়াশোনা ও পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনলাইনে ভুয়া তথ্য, গুজব ও প্রতারণা দিন দিন বাড়ছে, যা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এছাড়া সাইবার অপরাধ, হ্যাকিং ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকিও বেড়ে গেছে।
নৈতিক অবক্ষয়ও ইন্টারনেটের একটি বড় সমস্যা। অনেক সময় কিশোর-কিশোরীরা অনুপযুক্ত কনটেন্টের প্রভাবে ভুল পথে পরিচালিত হয়। ফলে সামাজিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাই ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতনতা ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, ইন্টারনেট নিজে ভালো বা খারাপ নয়; এটি নির্ভর করে আমাদের ব্যবহারের ওপর। সঠিক ও ইতিবাচক ব্যবহারে ইন্টারনেট আমাদের জীবনের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে, আর অপব্যবহারে এটি অভিশাপে পরিণত হয়। তাই আমাদের উচিত ইন্টারনেটকে জ্ঞান ও উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা এবং এর নেতিবাচক দিক থেকে নিজেকে দূরে রাখা।
Leave a Comment